সমিতিটি একটি অরাজনৈতিক, পেশাজীবী দ্বীনি সংগঠন। এর যাত্রা শুরু ১৯৮৪ সালের ৪ জানুয়ারি, আর এ বছর এটি ৪২ বছরে পা রেখেছে। সংগঠনের তিনটি লক্ষ্য হলো মসজিদকে নববী আদর্শে পুনর্গঠন করা, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সমাজ গড়া, এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইমামদের নেতৃত্বের উপযোগী করে তোলা। সংগঠনটি ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত।

১. ঐক্য প্রয়াস

সমিতি বিভিন্ন ফিরকা ও মাসলাককে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করছে। এর স্লোগান "ইত্তিফাক মা'আল ইখতিলাফ", অর্থাৎ মতভেদ সত্ত্বেও ঐক্য।

২. উদ্দেশ্যভিত্তিক কার্যক্রম

আগে ইমামদের কোনো জাতীয় সংগঠন ছিল না। সমিতি তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কল্যাণমুখী কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে।

৩. জাতীয় উন্নয়নে অংশগ্রহণ

প্রশিক্ষণের পর ইমামদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। সরকার শ্রেষ্ঠ ইমাম পুরস্কার দেয়, এবং প্রতি জেলা থেকে একজন করে মোট ৬৪ জন ইমামকে শ্রেষ্ঠ খামারি হিসেবে পুরস্কৃত করে।

৪. সামাজিক সমস্যা সমাধান

লেখায় পারিবারিক ভাঙন, মাদক, যৌতুক, দুর্নীতি, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাংসহ ২৯টি সামাজিক সমস্যার তালিকা আছে। ইমামরা খুতবা ও ওয়াজের মাধ্যমে এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করেন।

৫. ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট

১৯৯৮ সাল থেকে দাবি তোলার পর ২০০১ সালে ট্রাস্ট গঠিত হয়, যার তহবিল এখন প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সমিতির দাবি, একে ১০০০ কোটি টাকার কল্যাণ ব্যাংকে রূপান্তর করে ইমামদের জন্য পেনশন চালু করা হোক।

৬. মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

দেশে প্রায় ৪ লাখ মসজিদ ও ৮ লাখ ইমাম-মুয়াজ্জিন আছেন। চাকরিবিধি না থাকায় তারা হয়রানির শিকার হতেন। সমিতি ২০০৩ সালে একটি খসড়া তৈরি করে, এবং ২০০৭ সালে নীতিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সমিতি এখন একে আইনে পরিণত করার আবেদন জানাচ্ছে।

৭. জঙ্গি প্রতিরোধ

২০০৫ সালের ৯ ডিসেম্বর খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের আহ্বানে সারা দেশে খুতবা ও মিছিল হয়, এবং তিন মাস ধরে প্রচারণা চলে। লেখকের মতে জেএমবির পতনে এর ভূমিকা ছিল।

৮. নিরক্ষরতা দূরীকরণ

মসজিদভিত্তিক শিক্ষায় ১৯৯৩ সাল থেকে প্রায় দুই কোটি শিশু প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছে। প্রকল্পটি একসময় বন্ধ হওয়ার মুখে ছিল, তখন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে তা টিকিয়ে রাখা হয়। এখন ৭৩ হাজার কেন্দ্রে এটি চলছে।

৯. স্যানিটেশন

জগন্নাথপুর পৌরসভায় শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত হয়েছে, পরে পুরো উপজেলায়।

১০–১৩. আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, পরিবার কল্যাণ, বনায়ন ও ইসলামী মূল্যবোধ

এসব ক্ষেত্রে ইমামদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। কোনো কোনো ইমাম একাই ৪–৫ হাজার গাছ লাগিয়েছেন।

১৪. টিকাদান ও পোলিও

ইউনিসেফের হিসাবে ৬৫% মানুষ মসজিদ থেকে টিকার খবর পেয়েছেন।

১৫–১৬. মাদক, যৌতুক, বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু অধিকার

বাল্যবিবাহ বিষয়ক একটি পুস্তিকা ইউনিসেফের সহায়তায় ইমামদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

১৭. ফিরকাওয়ারি বিদ্বেষ হ্রাস

সব ফিরকার ইমামদের এক মঞ্চে আনা হয়েছে।

১৮. জন্ম নিবন্ধন

"ইসলামের আলোকে জন্ম নিবন্ধন" বইটি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

১৯. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

সিডর, রোহিঙ্গা সংকট, সিলেট, ফেনী-নোয়াখালী-কুমিল্লার বন্যা এবং চট্টগ্রামে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

২০–২১. আস্থা অর্জন ও মসজিদ-ইমামের গুরুত্ব বৃদ্ধি

বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সমিতির নিজস্ব জমি ও অফিস হয়েছে, আর ঢাকায় জমি কেনার প্রক্রিয়া চলছে।

২২. জুমার ছুটি

২০০৭ সালে সাপ্তাহিক ছুটি রবিবারে নেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়, এবং সরকার পিছু হটে।

২৩. নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০০৮

সমিতি নীতিমালাটি প্রত্যাহারের দাবি তোলে। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে উত্তরাধিকার আইন বদলানো হবে না।

২৪. করোনা

সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হয় এবং মৃতদের দাফনে অংশ নেওয়া হয়। ৮৫% মানুষ এ বিষয়ে মসজিদ থেকে জেনেছে।

২৭. কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মাওলানা আব্দুল জাব্বার চাখারীসহ প্রয়াত নেতাদের স্মরণ করা হয়েছে।

২৮. ফ্যাসিস্ট আমল

১৫–১৬ বছর ধরে প্রতিবাদী ইমাম-খতিবরা জেল ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

২৯. ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান

খুতবায় প্রতিবাদী ভূমিকা রাখায় অনেকে চাকরি হারিয়েছেন।

৩০. নির্বাচনী ইশতেহার

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে, বিশেষ করে বিএনপির ইশতেহারে, ইমামদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় অন্তর্ভুক্ত করানো হয়। এর ফলে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমরা এখন মসজিদভিত্তিক আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন।

উপসংহার

এসব কার্যক্রমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অবদান সবচেয়ে বেশি। লেখক ধর্ম মন্ত্রণালয়, শুভানুধ্যায়ী ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ করেছেন।

মূল লেখায় ২৫ ও ২৬ নম্বর অংশ নেই, ২৪-এর পরেই সরাসরি ২৭ এসেছে।